রিটেইলার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার (আরএআই) সাম্প্রতিক জরিপ অনুসারে, গত বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে দেশটির খুচরা খাত ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। উৎসবের মৌসুমের ভোগ ব্যয় বাড়ার কারণে এটি সম্ভব হয়েছে, যা ২০২৫ সালে দুই অংকে সম্প্রসারিত হতে পারে বলে সংস্থাটি আশাবাদী। খবর দ্য হিন্দু।
আরএআইর সিইও কুমার রাজাগোপালন বলেন, ‘অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়কালে খুচরা খাতে মাঝারি প্রবৃদ্ধি হলেও প্রত্যাশিত দুই অংকের প্রবৃদ্ধি থেকে কম ছিল। উৎসবের সময় ভোক্তারা বেশি কেনাকাটা করেছেন। কিন্তু ভোক্তা শ্রেণীর নিচের স্তরে ব্যবসা পুনরুদ্ধার হয়েছে কিনা তা এখনো একটি প্রশ্ন। আমাদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো, নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সীমিত ব্যয়।’
তিনি আরো জানান, ২০২৫ সালে আরো স্থিতিশীল ভোগ প্রবণতার আশাবাদ দেখা যাচ্ছে। রাজাগোপালন বলেন, ‘উৎসব-পরবর্তী সময়ে চাহিদা বৃদ্ধির প্রবণতা দ্রুত কমে গিয়েছিল। এখন উদ্বেগের বিষয় হলো উৎসব ছাড়া অন্য সময়ে স্বাভাবিক ভোগপ্রবণতা দেখা যাবে কিনা।’
২০২৪ সালজুড়ে ভারতের খুচরা খাতে ভোগ ব্যয় বৃদ্ধিতে মন্দাভাব ছিল। এর ফলে খুচরা বিক্রেতারা বিভিন্ন ধরনের অফার এবং উৎসবের সময় কেনাকাটা বাড়ানোর মাধ্যমে ব্যবসা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন।
আরএআইর জরিপে দেখা গেছে, পশ্চিম ভারতে অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ শতাংশ বিক্রি বেড়েছে। উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতে খুচরা খাতের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ শতাংশ। বিভাগ অনুযায়ী, খাদ্য ও মুদিপণ্য ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এরপর ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে ফাস্টফুড রেস্তোরাঁ এবং গহনা খাত ৯ শতাংশ।
কুমার রাজাগোপালন বলেন, ‘খুচরা খাতে ২০২৫ সালে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির আশা করছি। অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত রয়েছে এবং আমরা আশা করি, খাতটি দুই অংকের প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। মূল্যস্ফীতি এখনো বড় একটি উদ্বেগের বিষয়। পরিচালন খরচ বাড়ার ফলে মুনাফা বজায় রাখতে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত প্রয়োজন।’